শ্রদ্ধাঞ্জলি

মার্কোপোলো
মার্কোপোলো
ইটালিয়ান অভিযাত্রী

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ অভিযাত্রীদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন মার্কোপোলো। ১২৫৪ খ্রীষ্টাব্দে ইটালির ভেনিস শহরে তাঁর জন্ম। এই ইটালিয়ান অভিযাত্রী আজ থেকে সাড়ে আটশো বছর আগে ইউরোপীয়দের কাছে মধ্য এশিয়া ও চীনকে পরিচিত করিয়েছিলেন। এমনকি কলম্বাস সহ তার পরবর্তি সময়ের অভিযাত্রীদের অনুপ্রাণিতও করেছিলেন তিনি। পিতা নিকোলো পোলো ছিলেন একজন ধনাড্য...

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ অভিযাত্রীদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন মার্কোপোলো। ১২৫৪ খ্রীষ্টাব্দে ইটালির ভেনিস শহরে তাঁর জন্ম। এই ইটালিয়ান অভিযাত্রী আজ থেকে সাড়ে আটশো বছর আগে ইউরোপীয়দের কাছে মধ্য এশিয়া ও চীনকে পরিচিত করিয়েছিলেন। এমনকি কলম্বাস সহ তার পরবর্তি সময়ের অভিযাত্রীদের অনুপ্রাণিতও করেছিলেন তিনি। পিতা নিকোলো পোলো ছিলেন একজন ধনাড্য ব্যবসায়ী ও অভিযাত্রী। মার্কোপোলো কেবল একজন অভিযাত্রীই ছিলেন না, দীর্ঘ পরিসরে লিপিবদ্ধ করে গেছেন তাঁর অভিযানের কাহিনী, এছাড়াও মানচিত্র অংকনবিদ্যায় তাঁর বিশেষ অবদান রয়েছে। পোলো পরিবার ১২৭১ খ্রী: থেকে শুরু করে চীন, জাপান এবং ভারতের মধ্য দিয়ে ১৫০০০ মাইল সমুদ্রপথ পরিভ্রমণ করে। দীর্ঘ চব্বিশ বছরের এই সমুদ্রযাত্রার অভিজ্ঞতা চার খন্ডের বইয়ে লিপিবদ্ধ করেন মার্কোপোলো। ১২৯৮ খ্রীষ্টাব্দে মার্কোপোলো কারজোলার যুদ্ধে জিওনিস যোদ্ধাদের কাছে গ্রেফতার হন। জিনোয়ার জেলে তিনি তাঁর সহবন্দী ইটালিয়ান রাষ্ট্রিচেলো দ্যা পিসার কাছে তাঁর ভ্রমণ স্মৃতি বর্ণনা করেন। ১২৯৯ খ্রীষ্টাব্দে মুক্তি পেয়ে তিনি আবার ভেনিসে ফিরে আসেন। চার খন্ডের ভ্রমণ কাহিনী ‘টু মিলিয়ন’ () প্রকাশিত হয় ১৩০০ খ্রীষ্টাব্দে। মঙ্গোল স¤্রাট কুবলাই খানের দরবারের স্মৃতিময় অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ এই বিখ্যাত বইয়ে ১২৭৬ থেকে ১২৯১ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত মার্কোপোলোর ভ্রমণের বর্ণনা রয়েছে, যেটিকে কেবল ভ্রমণবৃত্তান্ত নয় বরং শিক্ষামূলক লোকজ সাহিত্য হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। প্রথম খন্ডে বিবৃত হয়েছে মধ্য এশিয়া ও মধ্য প্রাচ্যের রাজ্যসমূহের সমাজ সংস্কৃতি। দ্বিতীয় খন্ডে রয়েছে কুবলাই খানের দরবারের বর্ণনা। তৃতীয় খন্ডটি ভারতবর্ষ, জাপান, আফ্রিকার পূর্ব উপক‚ল ও শ্রীলংকার উপক‚লসমূহের বর্ণনায় সমৃদ্ধ। চতুর্থ খন্ডে রয়েছে মঙ্গোলিয়া ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধের বর্ণনা। তবে চার খন্ডের এই বিশদ বর্ণনার মাঝে চীনা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ চীনের প্রাচীর এবং চায়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ না থাকায় মার্কোপোলোর এই অভ‚তপূর্ব কীর্তিটি কখনও কখনও সমালোচিত ও বিতর্কিত হয়। ১৩২৪ খ্রীষ্টাব্দের ৮ অথবা ৯ জানুয়ারী এই বিশ্ববিখ্যাত অভিযাত্রী মৃত্যুবরণ করেন।

অনুবাদ / রাইয়ান আজিজ