ভ্রমণ: প্রসঙ্গ ও অপ্রসঙ্গ ভূ-পর্যটক

লেখাঃ আশরাফুজ্জামান উজ্জ্বল

বৃহঃস্পতিবার, ২৮শে এপ্রিল, ২০২২

সমণ শব্দটির উৎপত্তি সংস্কৃতভ্রমশব্দটি থেকে ভ্রমণ শব্দটির আভিধানিক অর্থ হলো চলন, অবস্থান পর্যটন শব্দটি দিয়ে বোঝায় ব্যাপক ভ্রমণ পথে বেরিয়ে পড়ার একটি আনন্দ আছে পুণ্যের টান তার সঙ্গে যুক্ত হলে সে-টান হয় আরো জোরালো   পুণ্যলোভাতুর মানুষ কোনো কালেই কম ছিল না ভ্রমণ বলতে একসময় মসজিদ, মন্দির, মাজার ইত্যাদি দেখে বেড়ানো বোঝাত তীর্থদর্শন আর ভ্রমণে কোনো পার্থক্য ছিল না পশ্চিমে বেড়াতে যাওয়াকেভ্রমণনাম দেওয়া হয়েছে ১৯ শতকের মাঝামাঝি সময়ে রেলগাড়ি চালু হওয়ার পর ১৯ শতকের আগে সাধারণত পায়ে হেঁটে ঘোরা, দেশের নানা স্থানে ঘুরে বেড়ানো বিশেষ করে বিচারের কাজে এবং সমুদ্রযাত্রাকেই ভ্রমণ বলা হতো; কিন্তু আদতে ভ্রমণের ধারণা থেকে এটি সম্পূর্ণ আলাদা একটি বিষয় ছিল

 

মানুষ প্রাচীনকাল থেকে ঘুরে বেড়াচ্ছে এই ঘুরে বেড়ানোর বেশির ভাগটাই কিন্তু কোনো কিছু না ভেবে-চিন্তে উদ্দেশ্যবিহীনভাবে ভবঘুরে মানুষ একা-একাও ঘুরে বেড়াত কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, বদলে গেছে এই ঘুরে বেড়ানোর ধরন সময়ের সঙ্গে মানুষের সভ্যতারও বহুমুখী বিকাশ ঘটেছে উদ্দেশ্যহীন ঘুরে বেড়ানোর জায়গায় এসেছে সচেতন ভ্রমণ অজানা-অচেনাকে জানা-চেনার খোজে ভ্রমণ একা ঘুরে বেড়ানোর বদলে চলছে দলগত ভ্রমণ ব্যাবিলনীয় মিসরীয় সম্রাটদের আমলে অবসর সময় কাটানোর জন্য ভ্রমণ করার প্রথম ঘটনাটি ঘটেছিল প্রাচীন ব্যাবিলনের শাসক ছিলেন শুলগি (খ্রিস্টজন্মের ২০০০ বছর আগে) শুলগি ভ্রমণকারীদের জন্য রাস্তার দেখভাল করতেন রাস্তার পাশে বিশ্রামের ঘরও বানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি অতীতে সাধারণত দুই ধরনের ঘটনায় মানুষ ঘর ছেড়ে বাইরে বেরোত ব্যবসা-বাণিজ্য তীর্থস্থানে ধর্মকর্ম করতে রোমান সম্রাটদের আমলেই আন্তর্জাতিক ভ্রমণ প্রথম গুরুত্ব পায় রোমান সম্রাটদের কড়া শাসনে কোনো জলদস্যুর ভয় না থাকায় সমুদ্রভ্রমণ খুব নিরাপদ ছিল ইংল্যান্ড থেকে সিরিয়ার ৩৪ মধ্যে কোনো রকম আন্তর্জাতিক সীমানা ছিল না ফলে দেশ-বিদেশ ভ্রমণ সহজ ছিল সর্বত্র ছিল রোমান টাকা-পয়সার চল ! ভাষা ছিল ল্যাটিন সিসিলি, গ্রিস, রোডস, ট্রয় মিসরে রোমানরা বেড়াতে যেত

 

হলিডে (Holiday-ছুটির দিন) কথাটি এসেছেহোলি ডে' (Holiday-পবিত্র দিন) থেকে অতীতে পবিত্র দিনে অবসর সময়ে নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান করা হতো বর্তমানে আমরা অবশ্য হলিডে বলতে রুটিনমাফিক কাজকর্মের একঘেয়ে জীবন থেকে ছুটিই বুঝি প্রাচীন রোমে নাগরিক ছুটির দিন (Public Holiday) পালন করা হতো অতীতে যেখানে-সেখানে ঘোরাঘুরিই মানবসমাজের বিবর্তনের সঙ্গে পাল্টে গিয়ে আজকের দিনের ভ্রমণে এসে দাঁড়িয়েছে, যা দ্রুত বিকাশশীল, অপেক্ষাকৃত কম দূষণকারী এক বৃহত্তম শিল্প

 

যাযাবর পশুর পাল তাড়া করে, নতুন তৃণভূমির খোজে গিরিরত্ন, প্রণালি, মরুপ্রান্তর হেলায় ডিঙিয়ে চলে গেছে মহাদেশ থেকে মহাদেশে সংস্কৃতির অভিবাসন এভাবেই গড়ে উঠেছে সুলেমান আল মাহিরি মধ্যযুগের আরবপণ্ডিত তিনি জানিয়েছেন, প্রাচীন আরব নাবিকরা চিনত প্রশান্ত মহাসাগর, বেরিং প্রণালি হয়ে আর্কটিক সমুদ্রপথ আরবীয় পর্যটক আল মাসুদির মতে, আরবরা বেরিং প্রণালিকে বলতওয়ারাং সমুদ্র' দক্ষিণ আফ্রিকার নৃতাত্ত্বিক . এম ডি ডবি- জেফায়ারস ১৯৫১-তে রিয়ো গ্রান্ডি নদীতে খুঁজে পান নিগ্রো-হেমাটিক নর-করোটি তাঁর সিদ্ধান্ত, কলম্বাসের ৫০০ বছর আগে ১০০০ খ্রিস্টাব্দে আরবরা পৌছায় আমেরিকায় সংলগ্ন ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জে কলম্বাস-সুহৃদ পিটার নীরটির বৃত্তান্ত অনুযায়ী, আমেরিকা-ভূখণ্ড ক্যারিবীয় দ্বীপে কলা, ভুট্টা নিয়ে এসেছে আরবরাই

 

পথ আমারই সাথী, আমি পথের লাগি বৈরাগী অভিযানে আগ্রহ মানুষের চিরকালীন তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সারা পৃথিবীতে দেখা যাচ্ছে একধরনের ট্যুরিস্ট মানসিকতা, এমনকি হিমালয়ের অভিযাত্রীরাও তার ব্যতিক্রম নয় ১৯৬০ সালে হিমালয়েরনন্দাঘুণ্টিশিখর অভিযান করে বাঙালির উদ্যোগে সারা ভারতে সেটিই প্রথম শৃঙ্গাভিযান তার আগে বিক্ষিপ্তভাবে নানাজন হিমালয়ে পৌঁছেছেন তার দুর্দমনীয় আকর্ষণে তীর্থযাত্রীরা গিয়েছেন পুণ্যের টানে পৃথিবীতে ঠিক কবে, কোথায়, প্রথম স্পাের্ট হিসেবে পর্বতাভিযানের সূত্রপাত হয়েছিল, তা নিয়ে নানান মত প্রচলিত আছে অনেকে বলেন, আজ থেকে প্রায় ২৫০ বছর আগে হোরেস বেনেডিক্ট ডি সাসুরি নামের এক জেনেভাবাসী ইউরোপের উচ্চতম পর্বতশিখর ব্লা শিখরে (১৫,৭৮১ ফুট) উঠেছিলেন এবং সেটিই বিশ্বের প্রথম পর্বতারোহণের ঘটনা অন্য আরেকটি দলের অভিমত হচ্ছে, ইংল্যান্ডের এডওয়ার্ড হুইমপার হলেন (১৮৪০-১৯১১) প্রকৃতপক্ষে পর্বতারোহণের জনক  পশ্চিমবঙ্গের মেয়েরাও পিছিয়ে নেই পর্বতারোহণে ১৯৬৭ সালে দীপালি সিনহার নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানটি সে-সময় সাধারণ মানুষের মনে প্রবল চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল তাদের প্রথম অভিযান ছিল গাড়োয়ালের রোন্টি (১৯,৮৯৩ ফুট) পর্বত-শিখর পরবর্তী সময়ে আরো অনেকে, যেমন - সুজয়া গুহর নেতৃত্বে ললনা (২০,১৩০ ফুট), রমা সেনগুপ্তর নেতৃত্বে কেদারনাথ ডোস (২২,৪১০ ফুট) এবং স্বপ্ন চৌধুরীর নেতৃত্বে মৃগথুনি (২২,৪৯০ ফুট) দীপালি সিনহার নেতৃত্বে বড়াশীগিরি (২১,৮৬৮ ফুট) পর্বতারোহণ করেছেন

 

বুদ্ধদেব গুহ একজন ঔপন্যাসিক গল্টকার তিনি নিজে প্রচুর অরণ্য ভ্রমণ করেছেন অস্ট্রেলিয়া ছাড়া পৃথিবীর সব কটি মহাদেশের অরণ্যেও তার পায়ের ছাপ পড়েছে সুন্দরবন নিয়ে তিনি বলেছেন, সুন্দরবনের মতো আশ্চর্য নৈসর্গিক সৌন্দর্য, তার গা-ছমছম আধিভৌতিক পরিবেশ, তার অভাবনীয় নির্জনতা, পর্যটককে কৌতুহল আর তার ভয়ের গাঁটছড়াতে বেঁধে এমনই এক অন্যলোকে নিয়ে যেতে পারে এবং যায়, যা অন্য খুব কম অরণ্যই পারে নামে সুন্দর হলে কী হবে - এমন ভয়াবহ বন পৃথিবীতে এক বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোথাও আছে বলে আমার জানা নেই এই ভয়াবহতা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য যতটা, মানুষখেকো বাঘ এবং কুমির হাঙরের জন্যও ততটাই

 

আমরা যদি আমাদের জনসংখ্যা না কমাতে পারি, যদি দারিদ্রমোচন না করতে পারি, যদি শিক্ষার বিস্তার না করতে পারি, শুধু সাক্ষরতা নয়, প্রকৃত শিক্ষার কথা বলছি, তাহলে ভ্রমণ এবং পর্যটনের জন্য কোনো অরণ্যই আর থাকবে না এই দেশে যদি রাজনৈতিক নেতাদের হাত থেকে আত্মরক্ষা করতে না পারি, তাহলে ওসমান গণির মতো সর্বভুক আর লোভী মানুষ নামক জানোয়ারকবলিত হয়ে সব অরণ্য, সব সৌন্দর্য এবং সব বন্যপ্রাণীই হয়তো নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে আর ২৫ বছরের মধ্যেই ১৮৪১ সালে যুক্তরাজ্যের লিস্টার শহর থেকে টমাস কুকের উদ্যোগে ৫৭০ জন পর্যটক ট্রেনে বেড়াতে বেরোলেন যখন, তখনই জন্ম নিল একটি নতুন শিল্ট, যার নাম পর্যটনশিল্ট এই শিল্টটি আন্তর্জাতিক চেহারা পেল যখন কুক সাহেব ইউরোপ ভূখণ্ডে পর্যটনের আয়োজন করলেন ১৮৫৬ সালে

 

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, অমিয় চক্রবর্তী, সৈয়দ মুজতবা আলীএই তিনজনের সঙ্গেই রামনাথ বিশ্বাসের অনেক পার্থক্য সুনীতিকুমার পণ্ডিত, অমিয় চক্রবর্তী বিদগ্ধ কবি, অধ্যাপক সৈয়দ মুজতবা আলী সাহিত্যিক পড়াশোনা করা লোক প্রত্যেকেই কখনো না কখনো শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, আর তিনজনেরই ছিল রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে সংযোগ সুনীতিকুমার বেড়াতে বেরিয়েছিলেন ভারত ইতিহাসের পথ অনুসন্ধান করতে, অমিয় চক্রবর্তী পৃথিবী ঘুরেছেন রবীন্দ্রনাথের সঙ্গী হয়ে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে বা সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি হয়ে, আর সৈয়দ মুজতবা আলী গিয়েছিলেন শিক্ষকতার টানে, চাকরিসূত্রে বা উচ্চশিক্ষার জন্য রামনাথ বিশ্বাস বেড়িয়েছেন সাইকেলে করে স্বাধীনভাবে পৃথিবীর পথে বইটিতে তার এই ঘুরে বেড়ানোর নানান রকম অভিজ্ঞতার ঝুলি উজাড় করে দেওয়া পর্যটকেরা টুর ‘itenary' বাইরে যেতে যায় না নিশ্চিন্ত নিরাপত্তা খোঁজে আর তাই পৃথিবীতে পর্যটক, পরিব্রাজকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে পর্যটনে সরকারি রাজস্ব যত বাড়বে, বিমল মুখার্জি, কল্টোল গুহ, রামনাথ বিশ্বাসের মতো পর্যটক ততো অদৃশ্য হবেন বাড়বে শৌখিন টুরিস্ট তাদের কেউ সৈয়দ মুজতবা আলী হতে পারবেন না | দর্শনার্থী (Tourist), পর্যটক (Traveler), পরিব্রাজক (Globetrotter) তিনটি তিন রূপ আজকাল প্যাকেজ ট্যুরের মাধ্যমে যারা ঘুরে বেড়ান, তারা হচ্ছেন Tourist এবং ভ্রমণসূচিতে ভাঙচুর ঘটিয়ে ভ্রমণকারী হয়ে ওঠে পর্যটক আবার পর্যটককে ছাড়িয়ে অন্য উচ্চতায় পৌছে যান পরিব্রাজক পরিব্রাজক আলাদা গোত্রের মানুষ নির্দিষ্ট ঠিকানায় তার জন্ম হলেও জীবনের এক বিশেষ পর্ব থেকে তিনি স্বেচ্ছায় ঠিকানা বদল করেন তারপর সারা জীবন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘুরে বেড়ান স্থায়ী ঠিকানাকে পুরোনোপোশাকের মতো ছেড়ে রেখে বিভিন্ন ঠিকানায় তিনি বসবাস করেন সব ঠিকানা সাময়িক প্রাচীন ইতিহাসে অতীশ দীপঙ্কর এবং আধুনিককালে রাহুল সাংকৃত্যায়ন ছিলেন যথার্থ পরিব্রাজক ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে টুইন টাওয়ারের ঘটনার পর থেকে পৃথিবী-ভ্রমণ অনেক কঠিন আর ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে পর্যটনকে শিল্টে রূপান্তর করার পর এখন সব ভ্রমণকারীই tourist, বাঁধা পথের পর্যটক মজার বিষয় হলো, অনেক বিখ্যাত ভূ-পর্যটকের লেখা জীবিত অবস্থায় বিখ্যাত হয়নি, মার্কোপলো তেমনই একজন মার্কোপলোর পাণ্ডুলিপি থেকে যেদিন আবিষ্কৃত হলো এশিয়া মহাদেশের, বিশেষ করে চীনের সত্য ইতিহাস, পণ্ডিতেরা বুঝতে পারলেন যে এই পাণ্ডুলিপির একটি বর্ণও মিথ্যা নয় এশিয়া সম্পর্কে জানার জন্য এই পাণ্ডুলিপি জ্ঞানের খনি, সেদিন থেকেই একটু-একটু করে বাড়তে লাগল শ্রদ্ধা সম্মান অজস্র কপি বিক্রি হয়েছিল বইটির, সেই পাণ্ডুলিপিটির নাম দি বুক অব মার্কোপলো   প্রাচীন সংস্কৃত সাহিত্যে ভ্রমণসুখ পাওয়া যায় কালিদাসের মেঘদূত কাব্যে বিরহের কাব্য রচনা করতে বসেও কালিদাস মেঘদূত-এর পূর্বমেঘের পাঠকদের ভ্রমণসুখ দিয়েছেন মধ্যযুগে মৈথিল কবি বিদ্যাপতি লিখেছিলেন ভূপরিক্রমা অষ্টাদশ শতকে বাংলায় একটি ভ্রমণমূলক বই লেখা হয় বইটির নাম তীর্থমঙ্গল, লিখেছিলেন বিজয়রাম সেন

 

ভ্রমণকাহিনী ভ্রমণসাহিত্য এক নয় সব ভ্রমণকাহিনীই ভ্রমণসাহিত্য হয়ে উঠতে পারে না ভ্রমণকাহিনী ব্যক্তির ভ্রমণের কাহিনী হতে পারে, কিন্তু সাহিত্য হয়ে ওঠে ব্যক্তিগত গণ্ডি ছাড়িয়ে সবার কাছে আবেদনগ্রাহ্য হয়ে ওঠার মধ্য দিয়ে সৈয়দ মুজতবা আলীর দেশে-বিদেশে তার একটি প্রকৃত উদাহরণ ভ্রমণকারীর কাছে ভ্রমণের স্মৃতি যত তাড়াতাড়ি আবদ্ধ হয়ে যায়, পর্যটক, পরিব্রাজকের কাছে তা হয় না ভ্রমণের ৫০ বছর পরে তাই দুচাকার দুনিয়া লিখতে পারেন বিমল মুখার্জি, ভ্রমণের ২৫ বছর পর লিখলেন কল্লোহ গুহ পায়ে পায়ে পৃথিবী বাংলা ভাষায় ভ্রমণসংক্রান্ত বইয়ের সংখ্যা কয়েক হাজার   শুধু বাংলাদেশি ভ্রমণ-লেখকদের চার শতাধিক ভ্রমণবিষয়ক বই রয়েছে এবং সবচেয়ে বেশি ভ্রমণবিষয়ক বই লিখেছেন রামনাথ বিশ্বাস (৩০টি), তারপর মীনা আজিজ এবং পরে রাবেয়া খাতুন

 

ভারতীয় পর্যটকদের লেখা প্রথম ইংরেজিতে লেখা ভ্রমণকাহিনী হলো কেশবচন্দ্র সেনের ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা থেকে লন্ডন-ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা কেশবচন্দ্র সেন ইন ইংল্যান্ড : ডায়েরিজ, সারমনস, অ্যাড্রেসেস অ্যান্ড ইপিসস বর্তমানে ভারতীয় লেখকদের মধ্যে যারা ইংরেজিতে ভ্রমণকাহিনী লিখে বিখ্যাত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিরা হচ্ছেনবিক্রম শেঠ, আর কে নারায়ণ, ভি এস নাইপল, অমিতাভ ঘোষ সালমান রুশদি সবচেয়ে সচেতন বাংলা ভ্রমণকাহিনীটি সম্ভবত বিজয় রায় সেনের তীর্থমঙ্গল সেটি নগেন্দ্রনাথ বাবু ১৯১৫ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে প্রকাশ করেন বাংলা ভাষায় প্রথম সার্থক ভ্রমণকাহিনীর উদাহরণ সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পালামৌ এহতেশাম উদ্দীন মীর্জা প্রথমে বাংলার নবাব মীরজাফরের অধীনে চাকরি করতেন তিনি সর্বপ্রথম ইউরোপ ভ্রমণকারী বাঙালি ! ১৭৬৭ সাল দেশে ফেরেন এবং ফার্সিতে তার ভ্রমণকাহিনী লেখেন এবং জেমস এডওয়ার্ড আলেকজান্ডার এই গ্রন্থটির ইংরেজি অনুবাদ করেন লন্ডন থেকে ১৮২৭ সালে

 

মহাকাশভ্রমণ এখন আর কোনো লেখকের কল্পকাহিনী নয় ইচ্ছে এবং টাকার সমন্বয় হলে এটি এখন বাস্তবায়ন সম্ভব তবে মহাকাশ-ভ্রমণের জন্য প্রস্তুতিমূলক প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে আনুশাই মহাকাশে যাওয়ার আগে রাশিয়ায় ছয় মাস ট্রেনিং কোর্স করেছেন পৃথিবী থেকে ISS যেতে আনুশাহর দুই দিন লেগেছিল এবং সেখানে তিনি আট দিন অবস্থান করেন The Int'l space station (ISS) is a collaboration of 16 countries who have come together co-operatively and peacefully to work in space. The ISS ways about 454,240 pounds 17,500 miles per hour and makes a full rotation around the carth once every 90 minutes. 50 each day the space tourist able to see 16 sunsets and 6 sunrises. এক সপ্তাহের মহাকাশভ্রমণ টুর বিক্রি হয় ২০ মিলিয়ন ইউএস ডলারে মহাকাশভ্রমণে সর্বপ্রথম পর্যটক ডেনিস টিটো নামকএক আমেরিকান ব্যবসায়ী তিনি রাশিয়ান রকেটে (Soyug) করে ৩০ এপ্রিল ২০০১ সালে আন্তর্জাতিক মহাকাশকেন্দ্রে পৌছান দ্বিতীয় পর্যটক ছিলেন একজন দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যবসায়ী Mark Shuttleworth তিনি ২৫ এপ্রিল ২০০২ সালে যাত্রা করেন তৃতীয় হিসেবে Areg olsen নামের আরেক আমেরিকান ব্যবসায়ী যাত্রা করেন অক্টোবর ২০০৫ সালে Charles Simonyi নামের একজন software architect পঞ্চম ব্যক্তি হিসেবে মহাকাশভ্রমণে যান এপ্রিল ২০০৭ সালে ষষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে আমেরিকার Richard Garriott ১২ অক্টোবর ২০০৮ সালে মহাকাশ ভ্রমণ করেন ১০ দিনের ভ্রমণে তিনি ব্যয় করেন ৩০ মিলিয়ন ডলার

 

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০০৬ সালে Anousheh Ansari, একজন Telecommunications ব্যবসায়ী, প্রথম মহিলা হিসেবে মহাকাশ ভ্রমণ করেন তিনি আমেরিকাপ্রবাসী ইরানি মহিলা হিলটন হোটেল ঘোষণা দিয়েছে, আগামী ১৫-২০ বছরের মধ্যে মহাকাশে space hotel বানানো সম্ভব | বাংলাদেশের যুবকদের ভ্রমণে উৎসাহিত করতে এবং ভ্রমণের মাধ্যমে সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পর্যটনবিষয়ক সংগঠন করেন আহমদ শহীদুল হক (চান) ১৯৮৬ সালে সংগঠনটির নাম Young Tourist Club - Bangladesh (YTC) সংগঠনটির চক্ষু মেলিয়া নামে মাসিক ভ্রমণবিষয়ক পত্রিকা ছিল পরবর্তী সময়ে YTC বাংলাদেশের ওপর ভ্রমণবিষয়ক গাইড বই বের করেন সংগঠনটির চেয়ারম্যান ছিলেন . সৈয়দ রাশিদুল হাসান যিনি Travel & Tourism বিষয়ে গ্রিস থেকে Ph.D ডিগ্রি অর্জন করেন প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ছাত্র যুবকদের জন্য YTC আন্তর্জাতিক ইয়ুথ হোস্টেল কার্ড, ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট আইডেন্টিটি কার্ড (ISIC), ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ ট্রাভেল কার্ড (IYIC) ইত্যাদির সঙ্গে পরিচিত করান এবং বাংলাদেশ থেকে সেই সব কার্ড পাওয়ার ব্যবস্থা করেন বিশ্বের প্রায় সব দেশেই ছাত্র যুবকদের জন্য বিমান, রেল বাসে কম মূল্যে ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে অথচ গত ৩৮ বছরেও আমরা আমাদের ছাত্র যুবকদের জন্য ধরনের কোনো সুযোগ করে দিতে পারিনি

 

মুসা ইব্রাহিম অভিযাত্রী নামের একটি পর্যটন অ্যাডভেঞ্চার-বিষয়ক মাসিক বুলেটিন বের করেন বর্তমানে ঢাকায় প্রায় ৩০টির মতো (আমার জানামতে) পর্যটন, অ্যাডভেঞ্চার, ব্যাকপ্যাকারস ক্লাব মিলে বাংলাদেশ ইয়ুথ টুরিজম ফেডারেশন গঠন করা হয়েছে এবং শুধু মেয়েদের নিয়ে গঠন করা হয়েছে Women Backpackers (lub (WBC) বর্তমানে বাংলাদেশে বাংলায় ভ্রমণবিষয়ক পত্রিকার মধ্যে রয়েছে মহিউদ্দিন হেলাল সম্পাদিত পর্যটন বিচিত্রা, আহসান হাবীবের ট্রাভেল অ্যান্ড ফ্যাশন, কাজী রকীবুল ইসলামের ওয়ার্ল্ড ভিউ, সৌমিত্র দেবের পর্যটক এবং মোস্তফা সেলিমের ভ্রমণচিত্র

 

ভ্রমণের সাথে ইতিহাসের সম্পর্ক নিবিড় ইবনে বতুতা, মার্কোপলো, হিউয়েঙ সানের লেখায় তৎকালীন ইতিহাস পাওয়া যায় তবে ইতিহাস নিয়ে প্রাচ্য পাশ্চাত্যের দ্বন্ধ সবসময়ই ছিল নইলে রামনাথ বিশ্বাস, বিমল মুখর্জির মতো ভূ-পর্যটকদের কথা জানা যায় না google চেপে অথচ ১৫ বছরে সাইকেলে ১৩৪ দেশ ভ্রমণ করেছেন রামচন্দ্র বিশ্বাস জন্মস্থান হুগলি জেলার উত্তরপাড়া শহরের শিবতলা বাই লেনে সাইকেল চালিয়েছেন লক্ষ কি.মি. এছাড়াও অভিযাত্রী শরৎচন্দ্র দাস (১৮৪৯-১৯১৭), ভূ-পর্যটক চন্দ্রশেখর সেন (১৮৫১-১৯২০), ভূ-পর্যটক ক্ষিতীশ বন্দোপাধ্যায় (১৯২১-১৯২৪) এঁদের কথা 'জনাই আজ জানেভূ-পর্যটক বিমল মুখার্জী, বিমল দে, রামনাথ বিশ্বাস, কল্লোল গুহ এদের কথা আমি উল্লেখ করেছি আমার সঙ্গী সাইকেল আরাধ্য পৃথিবী, এবং পূর্ব আফ্রিকা বই দুটিতে