ভ্রমণং গমনং গচ্ছামি
লেখাঃ আহসান হাবীব
বৃহঃস্পতিবার, ২৮শে এপ্রিল, ২০২২এক বন্ধু ঠিক করেছে যাবে ভ্রমণে, কক্সবাজার । আরেক বন্ধু সঙ্গী হয়েছে তার ।।
"- আমি তোর সঙ্গে যাচ্ছি কেন, জানিস?
- কেন? - কারণ তুই জীবনের প্রথম ভ্রমণে যাচ্ছিস, তা-ও আবার কক্সবাজারে ।। - তাতে কী?
- আরে বোকা, সেই কক্সবাজার আর নেই রে। কক্সবাজার এখন হোটেল বাজার... প্রথম ধরাটা খাবি হোটেলে উঠেই ।
- বেশ, চল তাহলে। দুজন রওয়ানা হয়ে পড়ল। কক্সবাজার পৌছে, গেল একটা হোটেলে । ধরা যাক সময়টা ছিল অফ সিজন। - রুম ভাড়া কত? - ১০০০। - মাথা খারাপ, না পেট খারাপ? এখন অফ সিজন । - ঠিক আছে, ৫০০ টাকা।
- প্রশ্নই ওঠে না। শুধু রাতটা বিছানায় কাটাব। বাকি সময়তো পড়ে থাকব সি-বিচে, নইলে বার্মিজ মার্কেটে।।
- ওইতো ওই বিছানার ভাড়াই ৫০০ । - আরে না, আরো কমান...
- বেশ, তাহলে ৩০০ দিন। এর নিচে নামা সম্ভব নয়। অফ সিজন বলেই বলছি, নইলে ১২০০ টাকা চাইতাম । আমাদের রেট আসলে ১২০০ টাকা।
- না-না, কী বলছেন? আপনাদের কারণে দেশের পর্যটন শিল্প দাঁড়াতে পারছে না। জানেন, ভারত, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, মালদ্বীপ কোথায় চলে গেছে পর্যটন দিয়ে? আর আমরা... শুনুন ভাই, একটা কথা বলি, সবচেয়ে কম কততে পারবেন? ঠিক করে বলুন।
- নারে ভাই, ৩০০'র নিচে নামা সম্ভব না।
- শুনেন ভাই, আমরা দুজনে মিলে ৫০ আর ৫০... ১০০ টাকা দেব, পারবেন? না হলে অন্য হোটেলে যাই ।
হোটেল ম্যানেজার বেকুবের মতো তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ তারপর মাথা নাড়ল, যার অর্থ, হবে না। দুই বন্ধু চলে যাচ্ছে ! হঠাৎ কী মনে করে ম্যানেজার আবার ডাকল, ঠিক আছে, ১০০ টাকাই দিন।।
চালাক বন্ধু ১০০ টাকার নোট বের করে এগিয়ে দিল। তারপর তার প্রথম ভ্রমণে আসা বন্ধুর দিকে তাকিয়ে ভ ভঙ্গি করল, যার অর্থ - ‘দেখলিতো কীভাবে ১২০০ থেকে ১০০ টাকায় নামিয়ে আনলাম ।
ম্যানেজার ভেতরে চলে গেল। একটু পর ফিরে এসে একটি করাত আর কৌটায় কিছু পেরেক এগিয়ে দিল।
- এগুলো কী? - কেন করাত আর পেরেক । - এগুলো দিয়ে কী হবে?
- হোটেলের ছাদে চলে যান। ওখানে কিছু কাঠ আছে... নিজেদের বিছানা নিজেরা বানিয়ে নিন ।
ভ্রমণ নিয়ে আরেকটি ঘটনা। এবার পাত্রপাত্রী মহিলা - মা-মেয়ে। নারীবাদী ভার্সিটি-পড়ুয়া মেয়ে আর সাধারণ গৃহবধূ মা । মা রান্নাঘরে রান্নাবান্না করছিলেন। মেয়ে পাশেই...।
- মা, তুমি কখনো ভ্রমণ করেছ? - মানে? - মানে, ধর কোথায় বেড়াতে গিয়েছ?
- আরে না... সেই যে বিয়ের পর রান্নাঘরে ঢুকলাম... ঢুকলামই... কত বড় সংসার একা সামলানো চাট্টিখানি কথা?... মনে হয় ত্রিশ বছর ধরে রান্নাঘরেই আছি ।
- তার মানে বলতে চাচ্ছ, বিয়ের পর থেকে তুমি আর রান্নাঘর থেকে বেরোতেই পারো নি?
- না ।
- বলো কী? এটাও কি সম্ভব! এক জীবনে একজন নারী রান্নাঘর থেকে বেরোতে পারে নি? এই আধুনিক বিশ্বে? নারী যখন জেগে উঠেছে... বাবা এত বড় ক্রিমিনাল?
- ছিঃ ছিঃ, এসব কী বলছিস? তোর বাবার কী দোষ?... তবে একবার...। - একবার? মেয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠে । - একবার প্রচণ্ড ঝড় উঠেছিল...।। - তারপর?...তোমরা নিশ্চয়ই কক্সবাজারে তখন, অনেক বড়-বড় ঢেউ ?
না, আমি তখনো রান্নাঘরেই ! - মানে?
- মানে, আমি রান্নাঘরে মাছ কুটছিলাম । এই সময় প্রচণ্ড ঝড় উঠল । দমকা হাওয়ায় সব লন্ডভন্ড করে দিল। পাগল হাওয়া আমাকে রান্নাঘর থেকে উড়িয়ে নিয়ে ফেলল বাইরের উঠোনে...।।
- সেই তোমার বাইরে বেরোনো রান্নাঘর থেকে? - হঁ্যা।। প্রিয় পাঠক ভ্রমণবিষয়ক এই ঘটনা দুটিকে সিরিয়াসলি নেয়ার কিছু নেই । নিছক ফান। আমরা কিন্তু এখন অনেক বেশি ভ্রমণ-সচেতন । আমরা এখন সবাই বহির্মুখী
হয়েছি - এটা আশার কথা । ছুটিছাটায় বাইরে বেড়িয়ে পড়ি। না গিয়েই বা উপায় কী? সেই যে পৃথিবী বিখ্যাত এক পর্যটক বলে গেছেন এক অমূল্য বাণী: পৃথিবীটা একটা অপঠিত বই... আপনি যদি ভ্রমণ না করেন, তাহলে ধরে নিতে হবে ওই বইয়ের একটি পাতাও আপনি এখনো পড়ে উঠতে পারেন নি!
প্রিয় পাঠক, অতএব... ভ্রমণং গমনং গচ্ছামি...!