মিষ্টি, ছানামুখী
লেখাঃ চমন সিকান্দার জুলকারনাইন
রবিবার, ২৬শে মার্চ, ২০২৩ব্রিটিশ রাজত্বকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মিষ্টি, ছানামুখীর সুখ্যাতি দেশে বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মিষ্টির সুনামের পেছনে যে-ব্যক্তির নাম জড়িত তিনি হলেন মহাদেব পাঁড়ে। তাঁর জন্মস্থান কাশীধামে। সেই মহাদেব পাঁড়ে যখন কিশোর, তখন তাঁর বড় ভাই দুর্গাপ্রসাদ তাকে কলকাতায় নিয়ে আসেন। সেখানে বড় ভাইয়ের মিষ্টির দোকানে মিষ্টি তৈরি শুরু করেন বালক মহাদেব। কিন্তু বড় ভাই দুর্গাপ্রসাদ কিছুদিন পর মৃত্যুবরণ করেন। তখন নিরাশ্রয় হয়ে মহাদেব বেড়িয়ে পড়লেন নিরুদ্দেশে।
একসময়ে মহাদেব এলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে। শতাধিক বছর পূর্বে তখন শহরের মেড্ডা বাজারে শিবরাম মোদকের একটি মিষ্টির দোকান ছিল। তিনি মহাদেবকে আশ্রয় দিলেন। মহাদেব আসার পর শিবরামের মিষ্টির সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। মৃত্যুর কালে শিবরাম তাঁর মিষ্টির দোকানটি মহাদেবকে দিয়ে যান। জানা যায় যে, ভারতের বড় লাট লর্ড ক্যানিং-এর জন্য একটি বিশেষ ধরনের মিষ্টি তৈরি করে পাঠানো হয়েছিল কলকাতায়। লর্ড ক্যানিং এবং স্ত্রী লেডি ক্যানিং এই মিষ্টি খেয়ে খুব প্রশংসা করেছিলেন। এরপর এ-মিষ্টির নাম রাখা হয় ‘লেডি ক্যানিং’ মিষ্টি—বর্তমানে যা ‘লেডিক্যানি’ নামে পরিচিত। মহাদেবের তৈরি আরও একটি মিষ্টির নাম ‘ছানামুখী’। এই ছানামুখীর মতো মিষ্টি দেশের অন্য কোথাও তৈরি হয় না। মহাদেবের সৃষ্টি এ-ছানামুখীর সুনাম এখনও দেশে বিদেশে অক্ষুণ্ণ রয়েছে।
মহাদেব-এর নামে শহরের প্রাচীন বাজার এলাকায় একটি জায়গার নাম হয়ে গেছে মহাদেব পট্টি, যেখানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদি মিষ্টির দোকানগুলির অবস্থান। এর মধ্যে অনেকগুলির বয়সই প্রায় শতবর্ষী। এছাড়াও শহরের এম এস আলী রোডের ভগবতী মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, মাতৃ ভাণ্ডার ও আদর্শ মাতৃ ভাণ্ডার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির জন্য বিখ্যাত। মহাদেব পট্টি এলাকায় এ অঞ্চলের প্রাচীন ঐতিহ্য বাতাসা, মিঠাইর দুটি দোকান এখনও চালু আছে।